top of page

ইশতেহার

  • Writer: কবিকে মুক্ত করো
    কবিকে মুক্ত করো
  • Sep 23, 2021
  • 3 min read

সরোজ দত্ত থেকে স্ট্যান স্বামী…


প্রতিটি রাজনৈতিক বন্দীহত্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে কবি ওয়রওয়রা রাও সহ দেশের ও রাজ্যের প্রতিটি রাজবন্দির মুক্তির প্রশ্নে আপসহীন প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। আরও দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।


২০২০-র জুন মাসে ১১ জন কবি-লেখক-শিল্পী ও সাহিত্যকর্মী কারাবন্দি কবি ও মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সংগ্রামের অগ্রণী মুখ ওয়রওয়রা রাওয়ের মুক্তির দাবিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন ও পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সাহিত্যের মানুষদের এই দাবির সপক্ষে সর্ব হতে আহ্বান করেন। বহু মানুষ এই দাবির সমর্থনে মুখ খুলতে শুরু করেন। মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে ৬৩ জন বিশিষ্ট লেখক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষর সম্বলিত আহ্বানপত্রটি গণপ্রচারিত হয়। ওয়রওয়রা রাওয়ের কঠোর শর্তাধীন জামিনের পর্ব আগস্ট মাসেই শেষ হতে চলেছে এবং এন.আই.এ. তাঁকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। বন্দি অবস্থায় স্ট্যান স্বামীর হত্যা আমাদের আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্র চাইলে কী কী পদ্ধতিতে একজন রাজনৈতিক বন্দিকে খুন করতে পারে। চারু মজুমদার বা সরোজ দত্তের সময়ে যেভাবে তা করা হয়েছিল স্ট্যান স্বামী বা অন্যদের ক্ষেত্রে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। বন্দিদের জীবনীশক্তি নিংড়ে নিয়ে তাঁকে হাসপাতালের মৃত্যুশয্যায় শুইয়ে যদি তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়, তাহলে রাষ্ট্র আপাতভাবে 'কাস্টডিয়াল ডেথ'-এর দায় ঝেড়ে ফেলতে পারবে। ইতিহাসের অবিকল পুনারাবৃত্তি হয় না। রাষ্ট্র ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে ধারালো করে তোলে, আমাদেরও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রতিরোধের দেওয়ালকে দৃঢ়তর করে তুলতে হবে। আজকের পরিস্থিতিতে 'কবিকে মুক্ত করো' আহ্বানটির পুনঃপ্রচার আমরা জরুরি মনে করছি।

কবিকে মুক্ত করো। মুক্ত করো অন্ধকারের এই দ্বার।


প্রথম কবিতার বই 'চালি নেগালু' (ক্যাম্প ফায়ার) বেরিয়েছিল ১৯৬৮-তে। শেষ সংকলন 'বীজভূমি' ২০১৪-য়। এই অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে পাঠকের কাছে কবি ওয়রওয়রা রাও পরিচিত হয়ে উঠেছেন প্রতিরোধের কবিতার এক অগ্রণী মুখ হিসাবে। যাঁরা তার কবিতার সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁরাও আজকে তাঁর নাম জানেন - জর্মনির রাইখস্ট্যাগ ট্রায়ালের আদলে সাজানো ভীমা কোরেগাঁও ও প্রধানমন্ত্রী হত্যা চেষ্টা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত একজন বন্দি হিসাবে (বন্দিত্ব অবশ্য তাঁর কাছে নতুন কোনও বিষয় নয়, বর্ষীয়ান এই কবি সেই ১৯৭৩ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন, বহু দফায় কারাবন্দী থেকেছেন বহু বছর, যতদিন এ'দেশের আর কোনও কবিকে থাকতে হয় নি)। আর যাঁরা তাঁর কবিতাকে জানেন, তাঁদেরও সকলে হয়তো জানেন না তেলুগু সাহিত্যে আলোচক ও প্রাবন্ধিক হিসাবে তাঁর জায়গা কতটা উঁচুতে।

তেলুগু সংস্কৃতিতে মৌখিক ভাষ্য বিষয়ে তাঁর পোস্ট ডক্টরাল পেপার, এবং পরবর্তীতে তাঁর থিসিস 'তেলেঙ্গনা মুক্তিসংগ্রাম ও তেলুগু উপন্যাস : সমাজ ও সাহিত্যের আন্তঃসম্পর্কের একটি পাঠ'-কে সমকালীন মার্কসীয় সাহিত্যচর্চায় মাইলফলক বলে ধরা হয়। ১৯৬৬ থেকে '৯২, ওয়রওয়রা রাও প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত 'স্রুজনা' পত্রিকা আধুনিক তেলুগু সাহিত্য চর্চার সবচেয়ে মননশীল সাময়িকী বলে বিবেচিত হয়েছে। সমকালীন বিশ্ব প্রতিরোধ সাহিত্যের সঙ্গে তেলুগু পাঠকদের পরিচয় করিয়ে গেছেন ধারাবাহিকভাবে, জেলে বসেও অনুবাদ করেছেন কেনিয়ার সাহিত্যিক নগুগি ওয়া থিংগো-র উপন্যাস ডেভিল অন দ্য ক্রস বা জেল ডায়েরি ডিটেইনড। তাঁর নিজের কারাবাসের দিনলিপি সহচরলু 'ক্যাপটিভ ইমাজিনেশন' নামে অনুদিত হয়ে আন্তর্জাতিক পাঠকের সম্ভ্রম আকর্ষণ করেছে।

মার্কসবাদে আস্থাশীল কবি ওয়রওয়রা রাও কোনোদিন তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসকে লুকোতে চান নি, গণতান্ত্রিক অধিকার, ও আরো প্ৰসারিতভাবে বললে বুনিয়াদি মানুষের অধিকারের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন ও সক্রিয়তা জুগিয়েছেন, সরব থেকেছেন। ১৯৬৭-তে নকশালবাড়িতে ঘটে যাওয়া কৃষক বিদ্রোহ যখন ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নির্ণায়ক বাঁকবদল ঘটিয়েছিল, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রগতিশীল সাহিত্যকর্মীদের বড় অংশটাই সে সময়ে পক্ষ অবলম্বনে দ্বিধা করেন নি, সেই কাতারের দুই তরুণ মুখ ছিলেন চেরবন্ডা রাজু ও ওয়রওয়রা রাও। '৬৭ থেকে আজ, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ওয়রওয়রা রাও ক্রমশ থেকে গেছেন বিদ্রোহের ভাষ্যকার। তাঁর বিদ্রোহের ভাষা শাসকের ঘুম নষ্ট করেছে। জীবনের প্রতি যে আবেগ, যে জীবনীশক্তি এই ভাষার জন্ম দেয় তা ফ্যাসিবাদের পক্ষে তা হজম করা কঠিন। তাই, আজ আশি পেরোন বয়সে বন্দী রেখে, জেল থেকে জেলে ঘুরিয়ে তাঁর জীবনীশক্তিকে নিঙড়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে জেলের বাইরে বের করার আগে তাঁর মৃত্যুশয্যায় শোওয়া নিশ্চিত করা যায়। ঠিক যে পরিণতি হয়েছিল তাঁর বন্ধু ও সহযোদ্ধা চেরবন্ডা রাজুর।

আজ চুপ থাকলে কাল ফ্যাসিবাদের দেওয়াল চারপাশ থেকে চেপে ধরে আমাদেরও শ্বাস বন্ধ করে দেবে। আমরা, পশ্চিমবাংলার কবি, লেখক,শিল্পী ও সম্পাদকেরা চাই বিদ্রোহের কবিতা মুক্ত হোক। তাই আমরা স্পষ্টভাষায় কবি ওয়রওয়রা রাও-এর মুক্তির দাবিতে মুখর হচ্ছি। মুখর হচ্ছি, ভারতের জেলে বন্দী প্রতিটি লেখক, কবি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীর মুক্তির সপক্ষে। গলা মেলান আমাদের সাথে, এ আওয়াজ আরও উচ্চকিত হোক। দুঃশাসন শুনুক, তার প্রাসাদের বাইরে প্রতিরোধের কন্ঠস্বর জাগছে, কলরব হয়ে বাড়ছে, রণধ্বনি হয়ে ফেটে পড়ছে ।

এই সময়ে 'না' বলতে পারা কবিদের, শিল্পীদের, চিন্তাকর্মীদের খুব দরকার। তাই, কবিকে মুক্ত কর। মুক্ত কর অন্ধকারের এই দ্বারকে।


শঙ্খ ঘোষ । পবিত্র সরকার । সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় । অপর্ণা সেন । বিভাস চক্রবর্তী । শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় । জহর সরকার । সব্যসাচী দেব । কবীর সুমন । দেবজ্যোতি মিশ্র । অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় । বিপুল চক্রবর্তী । বিদ্যুৎ ভৌমিক । কাঞ্চন কুমার । নীহাররঞ্জন বাগ । স্বপন দাসাধিকারী । কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় । সুজাত ভদ্র । হিরণ মিত্র । সমীর আইচ। সোমশঙ্কর রায়

সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় । অমিত ভট্টাচার্য । স্বপ্না দেব । জয়া মিত্র । অনিতা অগ্নিহোত্রী । স্বপ্নময় চক্রবর্তী । নলিনী বেরা । অমর মিত্র । মনোরনঞ্জন ব্যাপারী । পরিমল ভট্টাচার্য । রাহুল পুরকায়স্থ । মৃদুল দাশগুপ্ত । অশোক চট্টোপাধ্যায় । অতনু মজুমদার । সৃজন সেন । সোমাইয়া আখতার

দেবশংকর হালদার । দেবাশিস মজুমদার । প্রবীর গুহ । সুমন মুখোপাধ্যায় । জয়রাজ ভট্টাচার্য । সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় । অর্জুন গৌরিসারিয়া । কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় । ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী । বিক্রমজিৎ গুপ্ত । বিরসা দাশগুপ্ত । অনিকেত চট্টোপাধ্যায় । দেবারতি দত্ত । রনি সেন । সৌমিত্র দস্তিদার । সোমেশ্বর ভৌমিক



Comments


bottom of page