top of page
chittoprosad cropped.jpg

'প্রতিরোধের ভাষা' কী? কেন?

২০২০-র ৫ আগস্ট কমরেড সরোজ দত্তের শাহাদাত দিবসে 'কবিকে মুক্ত করো'-র কর্মীদের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল প্রতিরোধ সাহিত্য অনুশীলনের মঞ্চ 'প্রতিরোধের ভাষা'। সময়ের দাবিতেই আজ তা পত্রিকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করল। সাহিত্য জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামে নির্ধারক নয়, পরিপূরক। আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট - জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামকে সাহিত্যে তুলে আনা, এবং নিপীড়ক রাষ্ট্রকে জিইয়ে রাখার জন্য সামন্তবাদ-সাম্রাজ্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদ যে ক্ষয়িষ্ণু আর ভোগবাদী সাহিত্য-সংস্কৃতির আধিপত্য ছড়ায়, তার বিরুদ্ধে সাহিত্যের প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

প্রগতি সাহিত্য (বা প্রতিবাদ সাহিত্য)-কে আজ সময়ের দাবিতেই 'প্রতিরোধ সাহিত্যে' উন্নীত হতেই হবে -  গার্সিয়া লোরকা থেকে সরোজ দত্ত, চেরবন্ডা রাজু থেকে ঘাসান কানাফানি এবং আরও অনেকের এই বিশ্বাসের উত্তরাধিকারকে আমরা বহন করতে চাই। প্রতিরোধ সাহিত্য মানুষের জন্য শুধু অশ্রুমোচন করে না, শুধু প্রতিবাদ করে না, প্রতিরোধ সংগ্রামের কথা বলে। এই মঞ্চে আমরা সেই নতুন লেখকদের চাই, সেই নতুন লেখকদের তৈরি করতে চাই - যাঁরা রাষ্ট্রকে মহাপরাক্রমশালী আর জনগণকে অসহায় ও দুর্বল দেখিয়ে দুঃখের বারোমাস্যা রচনা করায় আর সহানুভূতি দেখানোয় আটকে না থেকে প্রতিরোধের কথা বলবেন; ভারতের কোণে কোণে জেগে ওঠা নিপীড়িত সত্তা ও শ্রেণীর সংগ্রামগুলি সম্পর্কে উদাসীন থেকে সাহিত্য রচনা করবেন না

আমরা বিশ্বাস করি 'জনগণের জন্যই সাহিত্য'। প্রতিরোধ সাহিত্যের উপাদান আসে জনগণের শ্রম আর প্রতিরোধ থেকে। সেই ফসলকে আখ্যানে রূপান্তরিত করে আবার জনগণের কাছেই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা আমাদের কর্তব্য।

'প্রতিরোধের ভাষা'-য় আমরা পড়ব, তর্ক করব, শিখব এবং লিখব। আর সাহিত্যকে ছাপা পৃষ্ঠার গন্ডি থেকে মুক্ত করে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সে লেখাকে মুখের ভাষায় - বাচিক শিল্পে - রূপান্তরিতও করব। মেহনতি মানুষের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করাব মানুষ এই ভাষাকে গ্রহণ করছেন, না প্রত্যাখ্যান। আবার নতুন করে লিখব, আবার মানুষের কাছেই ফিরে যাব প্রতিরোধের ভাষায় কথা বলতে; আধুনিক সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বিবিধ লোক আঙ্গিককেও বুঝবার, শিখবার এবং প্রয়োগ করবার জন্য সচেতন উদ্যোগ নেব। ছবি, পোস্টার ও দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যম নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে, কার্যকরী ভাবে বেশি সংখ্যার মানুষের কাছে পৌঁছনোটাই আসল কথা।

মৌলিক বাংলা লেখার পাশাপাশি আমরা তুলে ধরব অন্য ভাষার প্রতিরোধ সাহিত্যের অনুবাদও। তেমনি বাংলা প্রতিরোধ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিকেও অন্য স্থানীয় ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। প্রতিরোধ সংগ্রামের মতোই প্রতিরোধ সাহিত্যেরও তো কোনো ভূগোলের সীমানা হয় না!

আমরা চাইছি প্রতিরোধের ভাষাসৈনিকদের

যাঁরা লিখবেন, অনুবাদ করবেন, কবিতা গল্প শোনাবেন মুখে মুখে, ছোট ছোট ফিল্ম বানাবেন, আঁকবেন,পত্রিকা পৌঁছে দেবেন মানুষের কাছে। ছোট ছোট সাহিত্যচক্র করবেন। 

আমাদের সাথে যুক্ত হতে যে কোনও শনিবার দীপায়ন-এ আসুন (২০ কেশব সেন স্ট্রিট, কলকাতা ৯ কলেজ স্ট্রিট বাটা-র কাছে), অথবা ৯৮২০০ ৮৩৯১১ নম্বরে হোয়াটসআপ করুন। 

bottom of page